হরমুজ মিয়া তরমুজের ব্যবসা করে অনেক টাকা কামাই করে আজ কোটিপতি হয়ে গেছেন। তিনি যে তরমুজ দিয়েই কোটিপতি বনে গেছেন তা কিন্তু না। এককালে হরমুজ মিয়া পেয়াজ রসুন থেকে শুরু করে সকল ধরনের সবজির ব্যবসা করতেন। গ্রামের মানুষের থেকে জিনিসপাতি সস্তায় কিনে ঢাকায় এনে চড়া দামে বেচতেন। সে যাই হোক সেসব হরমুজ মিয়ার বিষয়।আসল কথাই আসি।
হরমুজ মিয়া তার একমাত্র মেয়ে অর্পনার বিয়ে দিবেন বলে ঠিক করেছেন। অর্পনা নামে যেমন কাজকর্মেও তেমন অপূর্ণ মেয়ে। যেমন রূপবতী তেমনি অ–গুণবতী। তা হলে কি হবে, এযুগের মাইয়া স্কুল কলেজ পাস করলেই হয়ে যায় লাফাঙ্গা। সেই সাথে যদি থাকে সাদাগুণ, প্রেমিক হবে না কমগুণ। সাদা চামড়ার শ্বেতাঙ্গ রূপবতী অর্পনা অবশ্য কলেজ থেকেই টুকটাক প্রেম করতো। তার কথিত স্কুলের প্রাক্তন প্রেমিক সম্প্রতি বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। দেখতে শুনতে মন্দ নয় বলে অর্পনার আপত্তি নেই তাকে বিয়ে করতে। সব জেনেশুনে ছেলেটা হরমুজ মিয়ার কাছে তার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে হরমুজ মিয়া ভেবে দেখবেন বলে পরে আসতে বলেন।
এদিকে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। হরমুজ মিয়ার মেয়ে বলে কথা। অবশ্য কথা আছে টাকারও। কোটিপতি হরমুজের জামাই হতে কে না চায়। অবশ্য হরমুজ মিয়াও কম যান না। ছেলে যেমন তেমন টাকা চাই মনের মতন। অবশেষে অনেক দেখেশুনে মেয়ের বিয়ে দিলেন ঢাকার এক পান সুপারি ঠিকাদারের সাথে।দু'গাল রসে ভরা লাল হলেও ছেলেটি ছিলো টাকায় মা*।
এদিকে হাবু গোবেচারা ক্যাডার তো এক তরফা ধরেই নিয়েছেন হরমুজে জামাই সেই হবে। কিন্তু অর্পনার বিয়ের পরে বেচারা বুঝলো পাত্র হোক যেমন তেমন টাকা থাকুক মনের মতন। সেই থেকে ক্যাডার সাহেব তার প্রাইভেটের ছাত্রদের মাঝেমধ্যে বলেন— ' মুখে থাকলে চিনিবেশি কম পড়েনা সেবাদাসী।'
✏ তারিখ: ১২ মে, ২০২১😍

0 Comments